বাংলা পাণ্ডুলিপি পাঠসমীক্ষা
Synopsis
উনিশ শতকের শুরু থেকেই এদেশে প্রাচীন পুথি সংগ্রহ ও সংরক্ষণকাজ আরম্ভ হয়েছে। তবে সংগৃহীত পুথিগুলির পাঠের বিজ্ঞানসম্মত পঠন-পাঠন আজও তেমন হয়নি। এদেশের পুথি-সম্পাদনা ইতিহাস বহুদিনেরই বলতে হবে ; কিন্তু হিসেব করলে দেখা যাবে : যথাযথ ও যথার্থভাবে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা বেশি নয়। অধিকাংশ পুথি-সম্পাদকই একটা পাঠ দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন মাত্র। অনেক পুথি-সম্পাদক পাঠোদ্ধার ও পাঠনির্ণয় কালে দ্বিধাদ্বন্দ্বপূর্ণ মানসিকতারও পরিচয় রেখেছেন। সেজন্য, একই পাঠ এমনও হতে পারে কিংবা অমনও হতে পারে এরূপ মন্তব্যও কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। অথচ স্মরণযোগ্য যে একজন লিপিকর সুনির্দিষ্ট ‘একটা কিছু-ই লিখেছিলেন। আবার এমনও দেখা যায় : নিরূপিত পাঠের সপক্ষে লিপির প্রমাণ হাজির না করেই কোনো কোনো পুথি-সম্পাদক বা পাঠ-সমালোচক, বহুস্থলে, নানা ধরনের ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। এতে করে এ কথাটাই সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে : আমরা প্রাপ্ত ‘পুথির পাঠ' নয়, বরং নিজেদের কল্পিত পাঠ নিয়েই বড়বেশি ব্যাপৃত হতে চাই । এখন প্রশ্ন হলো : এ রকম হচ্ছে কেন? নিঃসন্দেহে এ একপ্রকার বিভ্রান্তি। এরূপ বিভ্রান্তি থেকে পরিত্রাণ লাভের উপায় কি? সংক্ষেপে বলা যায় : বিজ্ঞানসম্মতভাবে সুপ্রযুক্ত হলে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ঐতিহ্যাশ্রয়ী লিপিজ্ঞানই এরূপ বিভ্রান্তি অপনোদনের চাবিকাঠিরূপে গণ্য হতে পারে। আর যথাযথভাবে প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য-মণিকোঠার রত্নোদ্ধার এ উপায়েই কেবল সম্ভব। বলা বাহুল্য : এ গ্রন্থস্থিত অধ্যায়গুলির মধ্যে মুখ্যত এ কথাটাই নানাভাবে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত পরিশিষ্টে সংযোজিত তথ্যাদি গ্রন্থটির লক্ষ্য-অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করি। সকল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, গ্রন্থটি এর উদ্দেশ্যাসাধনে বিন্দুমাত্র সহায়ক বিবেচিত হলেই শ্রম সার্থক জ্ঞান করব।
Chapters
-
রেফ-এর ব্যবহার
-
একীভূত শব্দ